
এম মনিরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি।
সাতক্ষীরার সুন্দরবন অভয়ারণ্যে অভিযান চালিয়ে ১৭ জন মৌয়াল সহ দুটি নৌকা জব্দের পর তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের বিরুদ্ধে।
একই ঘটনায় বনদস্যুদের হাতে এক মৌয়াল জিম্মি হওয়ায় গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে ভুক্তভোগী মৌয়ালরা।
ভুক্তভোগী মৌয়ালদের পরিবার ও তাদের মহাজন সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সুন্দরবনের দোঁবেকী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বনবিভাগ ১৭ জন মৌয়াল ও তাদের ব্যবহৃত দুটি নৌকা জব্দ করে।পরে তাদের মধ্যে ৮ জনকে জোরপূর্বক গহীন সুন্দরবনের বকুলতলা নামক স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে,জব্দকৃত নৌকার একটি পুষ্পকাটি অফিসে হস্তান্তর করা হলেও অপর নৌকায় থাকা ৯ জনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের টিম লিডার আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
সুন্দরবনে আটকে পড়া মৌয়ালদের বরাত দিয়ে তাদের মহাজন খুলনার কয়রার সাইফুল্লাহ সরদার জানান, আমার কাছ থেকে দাদন (বিশেষ শর্তে ঋণ) নিয়ে খুলনার কয়রা উপজেলার কমোরদ্দি সরদারের ছেলে মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি মৌয়াল দল গত (৩ এপ্রিল)সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে মধু আহরণের উদ্দেশ্যে সুন্দরবনে প্রবেশ করে।
তিনি জানান,পথিমধ্যে কলাগাছিয়া নদীর সোনাখালী এলাকায় পৌঁছালে ‘দয়াল বাহিনী’পরিচয়ে একটি বনদস্যু দল তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা(জলদস্যুরা)খোকন হোসেন নামে এক জেলেকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।এতে আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে মৌয়ালরা অধিক মধু সংগ্রহের আশায় দোঁবেকী অভয়ারণ্যের গভীরে প্রবেশ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে গত (৭এপ্রিল)সাতক্ষীরা রেঞ্জের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাদের নৌকা জব্দ করে এবং তাদেরকে গহীন বনের বকুলের চরে জোরপূর্বক নামিয়ে দিয়ে চলে আসে।যেখান থেকে উপকূলীয় জনবসতি প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে বলে জানান তাদের মহাজন সাইফুল্লাহ সরদার।
বর্তমানে মোবারক হোসেন সহ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনের বকুলের চরে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী মৌয়ালদের এই মহাজন।
তার দাবি,খাদ্য সংকট,নিরাপত্তাহীনতা এবং দস্যুদের পুনরায় হামলার আশঙ্কায় তারা এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রতি মধু মৌসুমে বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তাহীনতা দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।এর সঙ্গে বনবিভাগের একটি অংশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভুক্তভোগী মৌয়ালদের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি,অবিলম্বে জিম্মি মৌয়ালকে সুন্দরবনে আটকে পড়া মৌয়ালদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা, এবং স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের প্রধান আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা বিশেষ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও গহীন সুন্দরবনে থাকায় স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের প্রধান আনোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক সরাসরি কথা না বললেও ম্যাসেজ দিয়ে বলেন,আমি একটা টহলে আছি কলাগাছিয়া।এই বিষয়ে আমার জানা নেই।স্মার্ট টিম আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
Leave a Reply