
হাফিজুর রহমান খান,
স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশে আইন পেশায় প্রবেশের একমাত্র নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এই প্রতিষ্ঠানের অধীন পরিচালিত আইনজীবী অন্তর্ভুক্তি পরীক্ষা দেশের বিচার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, এই প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও সিদ্ধান্তগত অস্থিরতা আইন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর রিভিউ শেষে রিভিউতে ১৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই উত্তীর্ণদের মধ্যে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বৈধ প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং তারা ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতিও গ্রহণ করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে ফলাফল স্থগিত করা হলে তা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রশ্নই তোলে না— বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত নীতির সাথেও সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়।
আইন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারা অনুযায়ী ‘স্টোপেল নীতি’-এর পরিপন্থী।
স্টোপেল নীতির মূল বক্তব্য হলো—
যদি কোনো কর্তৃপক্ষ বা পক্ষ তার ঘোষণার মাধ্যমে অন্য পক্ষের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য বিশ্বাস বা বৈধ প্রত্যাশা সৃষ্টি করে, তাহলে পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ক্ষতির কারণ হওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট প্রত্যাশা তৈরি করে। সেই প্রেক্ষাপটে ফলাফল স্থগিত করা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সীমা অতিক্রম করে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা শুধু পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে না, বরং ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের পেশাগত আস্থাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে সুস্থ মেধাসম্পন্ন ও আত্মবিশ্বাসী আইনজীবী অপরিহার্য। কিন্তু পেশায় প্রবেশের আগেই যদি তারা প্রশাসনিক অস্থিরতার শিকার হন, তবে তা ভবিষ্যৎ বিচার ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগজনক সংকেত।
এখন প্রয়োজন—
স্বচ্ছতা, নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং আইনগত ন্যায্যতার ভিত্তিতে দ্রুত ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
আইনজীবী তৈরির প্রক্রিয়ায় আস্থা পুনর্গঠনই হতে পারে বিচার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রথম ধাপ।
Leave a Reply