
বাহাদুর চৌধুরী :
সমাজের মৌলিক একক হলো পরিবার। সেই পরিবারে যখন শান্তি ভঙ্গ হয়, তখন তার প্রভাব পড়ে পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, পারস্পরিক অসম্মান ও মানসিক দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে—যা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
লক্ষ করা যাচ্ছে, অনেক পরিবারে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ধৈর্য, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কথাবার্তায় কটু ভাষা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের অভাব সংসারকে অশান্ত করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি, যা পারিবারিক যোগাযোগ ও ভালোবাসাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
এ বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—এটি কি কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা, নাকি সামগ্রিক নৈতিক ও মূল্যবোধের সংকট? ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে স্পষ্ট হয়, ইসলামসহ সকল নৈতিক শিক্ষাই পরিবারে ভালোবাসা, দয়া ও সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কোরআন স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রশান্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছে, আর হাদিসে পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণকে উত্তম চরিত্রের মানদণ্ড বলা হয়েছে।
সম্পাদকীয় বোর্ডের অভিমত হলো—পারিবারিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে একতরফা দোষারোপ নয়, বরং আত্মসমালোচনা জরুরি। স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই নিজেদের আচরণ, ভাষা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া।
শান্ত পরিবার গড়ে উঠলেই শান্ত সমাজ গড়ে উঠবে। আর সেই শান্তির শুরু হতে হবে শালীন ভাষা, পারস্পরিক সম্মান এবং নৈতিকতার চর্চা থেকে।
Leave a Reply