
বাহাদুর চৌধুরী :
কুমিল্লার চান্দিনায় মাদকসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তারের পর থানায় নিয়ে প্রায় ৯ ঘণ্টা আটক রেখে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে চান্দিনা থানার এসআই আব্দুর লতিফ ও এসআই ইমামের নেতৃত্বে বাকসার এলাকা থেকে মহিনউদ্দিন (২৮) ও সজিব (১৮) নামের দুই যুবককে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাদের ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটককৃত মহিনউদ্দিন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাইজখার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সেলিমের ভাতিজা পরিচয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। বিদেশে লোক পাঠানোর নামেও বহু মানুষকে প্রতারণার শিকার করেছেন তিনি। অপরদিকে সজিব এলাকাবাসীর কাছে চিহ্নিত মাদককারবারি, কিশোর গ্যাং সদস্য ও চোরচক্রের সদস্যের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত।
এলাকাবাসী আরও জানান, দুই যুবক ও তাদের পরিবারের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ করলেই হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনায় বিরোধের জেরে বাতেন ও তার ছেলে নাহিদকে মারধর করে মহিনউদ্দিন, সজিব, মোস্তফা ও রীনা। মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরার পথে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় নাহিদকে দেখতে পেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামের মানুষ বাতেনের পরিবারকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তফা ও রীনা বেগমকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে।
সময় সজিব ও মহিনউদ্দিন পালিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা আবারও হামলার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাদের আটক করে দেহতল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে গাজা এবং ইয়াবা উদ্ধার করে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃত সজিব বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ২টায় তাকে এবং মহিনউদ্দিনকে পুলিশ থানায় নেওয়ার সময় হাতকড়া পরিয়ে মারধর করতে করতে নিয়ে যায় এবং থানার লকারে আটকে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। মাদকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ৫০ গ্রাম গাঁজা থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও ইয়াবার পরিমাণের কথা বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুল লতিফ বলেন, “এলাকাটা এসআই ইমামের বিটের আওতায়। আমি শুধু সহায়তা করেছি তাকে।”
অপরদিকে এসআই ইমাম বলেন, “মূল দায়িত্ব ছিল এসআই লতিফের। আমি শুধু তাকে সহায়তা করেছি।”
ঘটনার সময়ের ওসি জাবেদ উল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বদলি হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি আতিকুর রহমানকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কথা শুনেই ফোন কেটে দেন। এরপর আর ফোন রিসিভ করেননি।
Leave a Reply