
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ত এলাকা কালিশংকরপুর। কিন্তু গভীর রাতে সেই ব্যস্ততাই থমকে যায় এক রোমহর্ষক ঘটনার সামনে। বাঁধন ছাত্রাবাসের ঘুমন্ত রুম থেকে আচমকা উঠে আসে ভয়ানক চিৎকার, এরপর—রহস্যজনক মৃত্যু এক তরুণ শিক্ষার্থীর। প্রশ্ন এখন একটাই—এটা কি নিছক স্বাস্থ্যগত মৃত্যু? নাকি কিছু অজানা অশরীরী শক্তির আছড়?
১৭ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কুষ্টিয়া কালিশংকরপুর বাঁধন ছাত্রাবাসে ঘটে এই অস্বাভাবিক ঘটনা। কুষ্টিয়া দর্পণ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেডিকেল বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র লুবাব (২০) এবং অনিক (১৯) একই রুমে বসবাস করতেন। রাত ১১টার দিকে দু’জনই ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ রাত ১২টা ৩০ মিনিটে লুবাবের অস্বাভাবিক চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় অনিকের।
অনিক জানায়, লুবাব কোনো কথার উত্তর দিচ্ছিল না, বরং অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করছিল। আতঙ্কিত অনিক দ্রুত হোস্টেলের অন্যদের ডেকে তোলে। ছাত্ররা ছুটে এসে মাথায় পানি ঢালে, জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায়, রাতেই লুবাবকে দ্রুত কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক লুবাবকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে: “Cyanosed Body”, অর্থাৎ অক্সিজেন স্বল্পতায় শরীরের রঙ নীলচে হওয়া।
কে ছিলেন লুবাব? লুবাব ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে। সদা হাস্যোজ্জ্বল এই ছাত্রের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিষ্ঠানজুড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহে কোনো ধরনের বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই। ফলে এটি হত্যা, আত্মহত্যা না কি অন্য কিছু—তা নিয়েই ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
ভৌতিক ছায়া নাকি বাস্তব রহস্য? স্থানীয়দের দাবি, কালিশংকরপুর এলাকার একাধিক ছাত্রাবাসে আগেও “কালো ছায়া চলাফেরা” এবং রহস্যময় ঘটনার গুঞ্জন ছিল। কেউ কেউ বলছেন, ছাত্রাবাসে নাকি দীর্ঘদিন ধরে এক অশরীরী সত্তা ঘোরাফেরা করে! এই মৃত্যু সেই ছায়ারই ফল কিনা, এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে লুবাবের মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে ভূতের আতঙ্ক। ছাত্রাবাসগুলোতে চাঞ্চল্য, কেউ কেউ ভয়ে বাড়ি চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
তদন্ত চলছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে” ভূতের আছড়, না কি নিঃশব্দে ঘিরে ধরা এক ভয়ানক অজানা মৃত্যু?”
ঘটনার গভীরে যেতে তদন্ত করছে পুলিশ ও চিকিৎসা বিভাগ।এদিকে, কুষ্টিয়ার ছাত্র সমাজের মাঝে দানা বাঁধছে এক অদৃশ্য ভয়।
Leave a Reply