
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
সন্ধ্যা নামলেই বদলে যেত দৃশ্যপট। আড়ালে শুরু হতো টাকার বিনিময়ে ইজ্জত কেনাবেচার নিকৃষ্ট ব্যবসা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খদ্দেরের সঙ্গে যোগাযোগ, আর দরদাম চূড়ান্ত হলে ভ্যান গাড়িতে করে নির্দিষ্ট নারীর ‘নিলাম’ ডাকা হতো। যে বেশি টাকা দিতে পারত, তার কাছেই পৌঁছে দেওয়া হতো সেই নারীকে। দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই চলে আসছিল এক অভিনব ভ্রাম্যমাণ পতিতালয়ের ব্যবসা।
অবশেষে এই চক্রের দুই মূলহোতাকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা। আটককৃতরা হলেন—কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গজনবীপুর গ্রামের বাসিন্দা সেকম আলী এবং তার এক সহযোগী। গত রাতে উজানগ্রাম ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনা ঘটে।
যেভাবে পরিচালিত হতো এই অন্ধকার ব্যবসা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিল। কোনো স্থায়ী আস্তানা না রেখে তারা ব্যবহার করত চলন্ত ভ্যান গাড়ি। অন্ধকার নামলেই মোবাইলের মাধ্যমে শুরু হতো খদ্দের খোঁজার কাজ। এরপর নারীদের এক প্রকার নিলামে তোলা হতো—যে খদ্দের সবচেয়ে বেশি টাকার ডাক দিতে পারত, ভ্যান গাড়িতে করে নারীকে তার নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হতো।
জনতার প্রতিরোধ ও আটক
উজানগ্রাম ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছিলেন। গত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনতা সোনাইডাঙ্গা গ্রামে ওত পেতে থাকে। এরপর অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় হাতেনাতে সেকম আলীসহ এই দুজনকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই চক্রের কঠোর শাস্তি এবং কুষ্টিয়া সদর এলাকাকে এ ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।