
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালযুক্ত অপরিপক্ক আম জব্দ করেছে প্রশাসন। শনিবার বিকেলে উপজেলার হাদিপুর ঘোষপাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১৬ মণ আম উদ্ধার করা হয়, যা কৃত্রিমভাবে পাকানোর প্রক্রিয়ায় ছিল।
অভিযানের বিস্তারিত
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাদিপুর ঘোষপাড়া সংলগ্ন হারুন গাজীর বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৩৬ ক্যারেট বা ১৬ মণ অপরিপক্ক আম পাওয়া যায়, যেগুলোতে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে দ্রুত পাকানোর (জাক দেওয়া) প্রক্রিয়া চলছিল।
তবে অভিযানের সময় আমের প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি। জব্দকৃত আম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ
এ ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জনস্বার্থে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রশাসনকে প্রদানকারী সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তথ্য দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেবহাটা উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হোসাইন তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্য না দেওয়ার জন্য শাসান।
জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিপক্ক ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে পাকানো হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
প্রশাসনের অবস্থান
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“জনস্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জিরো টলারেন্স নীতিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারী সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দাবি তুলেছেন তারা।
শেষ কথা:দেবহাটায় এই অভিযান আবারও প্রমাণ করলো—অল্প লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের জীবনের সঙ্গে খেলতে দ্বিধা করছে না। তবে প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।