
হাফিজুর রহমান(যশোর)প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর উলামা পরিষদের পৌরসভা শাখার সভাপতির বাড়িতে সশস্ত্র হামলা-ভাংচুর, মারপিট ও নারকীয় তান্ডবের ঘটনাটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার সহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় উলামা পরিষদের নেতার পিতা বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
হামলা ও লুটতরাজের খবর পেয়ে উপজেলা জামায়াতের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট ওজিউর রহমান, পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক জাকির হোসেন, পৌর সেক্রেটারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাবেক পৌর আমীর অধ্যাপক তবিবুর রহমান, পৌরসভার মধ্যকুল ওয়ার্ড সভাপতি মিজানুর রহমান ও পৌরসভা জামায়াতের নের্তৃবৃন্দরা ঘটনাস্থন পরিদর্শন করে সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে কেশবপুর পৌরসভা উলামা পরিষদের সভাপতি কেশবপুর শহরের মধ্যকুল গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ আল আমিনের পরিবারের সাথে পার্শ্ববর্তী মৃত আমির আলী বিশ্বাসের ছেলে রজব আলীর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। যা যশোর বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি চলমান রয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে গত ২৭ ফেব্রæয়ারি-২০২৫ ভোরে রজব আলী, তার ছেলে সবুজ ও বিপ্লবের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের ৪০ বছর ধরে বসবাস রত বসতবাড়িতে হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা জামায়াত নেতার পরিবারকে সন্ত্রাসী কায়দায় পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। তার বৃদ্ধ বাবা- মা, স্ত্রী এমনকি কোলের শিশুরাও পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। এ সময় তারা বাড়ির মধ্যে নারকীয় তান্ডব চালায়, ভেঙে তছনছ করে ফ্রিজ, আলমারি, দুইটা মোটর সাইকেল, শোকেস সহ ঘরের সকল দামী আসবাবপত্র। লুট করে নিয়ে যায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার ও জমির কাগজপত্রসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র। তান্ডব শেষে তারা গেটে তালা মেরে দখল করে নেয় । উপায়ন্তর না পেয়ে ওই পরিবার তাদের বসতবাড়ি ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কেশবপুর থানায় অবস্থান নেয়। পরে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গেটের তালা ভেঙে ওই পরিবারকে তাদের বসত বাড়ি বুঝিয়ে দেয়। এই ঘটনায় উলামা পরিষদের সভাপতি আল আমিনের পিতা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও ইউনিট সভাপতি শহিদ উল্লাহ বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় রজব আলী, সবুজ ও বিপ্লবের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০-৬০ জনের নামে একটি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও ঘটনায় সত্যতা পাওয়ায় গেটের তালা ভেঙে ওই পরিবারকে তাদের বাড়িতে রেখে আসেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত-পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।