
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর—একসময় যেখানে খালের স্বচ্ছ জলে ভেসে উঠত গ্রামীণ জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য, আজ সেখানে জমেছে পচা বর্জ্যের স্তূপ, ছড়াচ্ছে অসহ্য দুর্গন্ধ। প্রবহমান সেই খাল এখন প্রায় স্থবির; পানি কালচে,বাতাস ভারী,আর জনজীবন দুর্বিষহ।
স্থানীয়দের কণ্ঠে ক্ষোভ আর হতাশা—এ যেন দেখার কেউ নেই।” প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনায় খালটি হারিয়েছে তার স্বাভাবিক গতি ও সৌন্দর্য। অথচ খালটির অবস্থান এমন এক এলাকায়, যেখানে পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজর থাকার কথা সবসময়ই।
খাজানগর, দেশের অন্যতম চাল উৎপাদনকারী অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি, নৌচলাচল ও দৈনন্দিন জীবনে এই খালের ছিল অপরিসীম অবদান। বর্ষায় খালের পানিতে সঞ্জীবিত হতো আশপাশের ফসলি জমি। কিন্তু আজ সেই খালই পরিণত হয়েছে দূষণের এক ভয়াবহ উৎসে।
খালের দুই তীরে অবাধে ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি ও শিল্প বর্জ্য। কোথাও কোথাও খাল ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, বাড়ছে রোগব্যাধির ঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “বারবার অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। শুনছে, কিন্তু যেন শুনছে না।”এই কথাতেই যেন ফুটে ওঠে খাজানগরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা।
সাম্প্রতিক সময়ে খাল খননের নামে কিছু কার্যক্রমের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর। বরং পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হবে। পানি দূষণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট—খাল দখলমুক্ত করতে হবে, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান উদ্যোগই পারে খাজানগরের এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি দিতে।
খাজানগরের মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—আর কতদিন? জীবন-প্রকৃতির এই অবহেলা কি চলতেই থাকবে? সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে, এই খাল শুধু একটি জলধারা নয়—একটি হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির প্রতীকে পরিণত হবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।