
বাহাদুর চৌধুরী :✍️
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে রাষ্ট্রের সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম কীভাবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়সংগতভাবে পরিচালিত হবে—এই প্রশ্ন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, বহু ক্ষেত্রে সহায়তা বণ্টন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং দুর্নীতির প্রভাব স্পষ্ট। এর ফলে জেলে, কৃষক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন একটি কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃঢ় তদারকি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য, যা মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে। আমাদের দেশের ইতিহাসে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ সংকটকালে দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। সেই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে—সদিচ্ছা, কঠোর তদারকি এবং জবাবদিহিতা থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে বিদ্যমান পারিবারিক ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তৃণমূলেই যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না যায়, তবে উচ্চ আদালতগুলোতে মামলার জট বাড়তেই থাকবে। পরিবারিক, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায্যভাবে নিষ্পত্তি করা গেলে বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এখানে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। একজন জেলা প্রশাসক জেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনগতভাবে দায়বদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই তদারকি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে দাপ্তরিক কাগজপত্র ও প্রতিবেদনের মধ্যে। ফলে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যায়, আর অনিয়মগুলো কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না।
এই দুর্বল তদারকির সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন দেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগণ। তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাতে বসেছেন। একই সঙ্গে, এসব অনিয়ম তুলে ধরতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও নানা হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
অতএব, স্পষ্ট যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল নীতিনির্ধারণ যথেষ্ট নয়; তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয় তদারকি, নিরপেক্ষতা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। ব্যক্তি পরিবর্তনের চেয়ে ব্যবস্থার সংস্কারই এখানে অধিক জরুরি।
একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার সবচেয়ে প্রান্তিক নাগরিকও ন্যায্য অধিকার পায়। সেই লক্ষ্য অর্জনে এখনই সময় বাস্তবমুখী, কঠোর এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের।
'''''''''''''''''''০১৩২৩০০২৩৭৭'''''''''''
প্রকাশক ও সম্পাদক : বাহাদুর চৌধুরী মোবাইল: ০১৩২৩০০২৩৭৭
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যলয়ঃ চৌধুরী কমপ্লেক্স, চেয়ারম্যান বাজার, চরফ্যাশন, ভোলা ।
মোবাইলঃ০১৩২৩০০২৩৭৭'''' T.L.No:183 T.I.N:534926870539