
মোঃ অনিকুল ইসলাম উজ্জ্বল
বরগুনার তালতলী উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে কাজ করানো এবং বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগে প্রকল্প সভাপতির স্বীকারোক্তি মিলেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় চান্দখালী গ্রামের কড়ইতলা ভারানি খালের মোহনার স্লুইসগেট থেকে মোতাহার মৃধার কালভার্ট পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ফুট মাটির রাস্তা নির্মাণে সোয়া ৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির সভাপতি করা হয় ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁনকে। পরিপত্র অনুযায়ী শ্রমিক দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার ভগ্নিপতি পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন টিপু মৃধার মাধ্যমে ভেকু ব্যবহার করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করছেন।
এতে স্থানীয় দরিদ্র শ্রমিকরা কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান তালুকদার, দুলাল তালুকদার, খলিল আকন, মাসুম শরীফ ও আমির হোসেন বলেন, ‘ভালো রাস্তা কেটে নিচ থেকে মাটি তুলে উপরে দেওয়া হচ্ছে, এতে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের কাজের সুযোগও নষ্ট করা হয়েছে।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩ দশমিক ৩২৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে তা বিক্রি করে ভেকু দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন টিপু মৃধা বলেন, ‘ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খাঁনের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমি কাজ করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহিম খাঁন বলেন, ‘আমি প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলন করে বিক্রি করেছি এবং সেই টাকায় ভেকু দিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কমিশন দিয়ে ভেকুর মাধ্যমে কাজ করে আসছি।’
পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন মুন্সী জানান, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়ে থাকলে শ্রমিক দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।’
তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘কাবিখা প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।