
এম. ইব্রাহিম খলিল,
স্টাফ রিপোর্টার,,
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১০ বছরের এক ছাত্রীকে শা*রীরিক ও যৌ*ন নি*র্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক সাইদুল রহমানকে (৫০) আটক করেছে থানা-পুলিশ। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা শহরের মধ্যবাজার এলাকার মৃত সামছউদ্দিনের ছেলে। ভু*ক্তভোগী মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী। গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) সকালে ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে মেয়েকে নিতে মাদ্রাসায় এলে বিষয়টি টের পান মা। এরপর চিকিৎসার জন্য প্রথমে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ভেড়ামারা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছিল। ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস আগে মেয়েকে জামিলাতুন নেছা আদর্শ মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আবাসিকে ভর্তি করি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে আসি। গতকাল ঈদের ছুটিতে মেয়েকে আনতে গিয়ে দেখি গায়ে জ্বর। পায়ের ব্যথায় হাঁটতে পারছে না। কী হয়েছে, জানতে চাইলে ভয়ে কিছু বলে না। বিষয়টি মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রীকে জানালে তিনি হাসপাতালে না নিয়ে জ্বরের ওষুধ খাওয়াতে বলেন। এরপর অসুস্থ অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করি।’
ছাত্রীর মা আরও বলেন, ‘মেয়ের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে জিজ্ঞাসা করলে বলে—রিশা ম্যাডাম মা*রধর করেছে। মা*রধরের কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছে। ঘটনার পর কি ওষুধ খাইয়ে আমার মেয়েকে তারা ঘুম পাড়িয়ে রাখতে। আমার মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সে কোনো কথাই এখন বলতে পারছে না। আমি অভিযুক্ত তিনজনের নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
জানতে চাইলে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পল্লব সাহা বলেন, মেয়েটির পরিবার অভিযোগ তুলেছে, মেয়েটি যৌ*ন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। উপজেলার হাসপাতালে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ অপ্রতুল থাকায় পরিবার তাদের পরিচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘মেয়েটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিম্নগামী। এতে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। এখন মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। এর আগে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক যৌ*নাঙ্গে ইন্টারনাল ইনজু*রি পেয়েছেন। যার কারণে শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সন্দেহ করা হচ্ছে, যৌ*ন নির্যাতনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা পরিচালকের স্ত্রী শামীমা বলেন, ‘নির্যাতন কিংবা যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। মেয়েটির জ্বর এসেছিল, সেটা তার মা আসার পর জানতে পেরেছি। এর আগে এমন কিছু দেখি নাই।’ ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, এক ছাত্রীকে যৌ*ন নির্যাতনের অভিযোগে মাদ্রাসা পরিচালককে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মা*মলার প্রস্তুতি চলছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।