
হাসান হৃদয়,স্টাফ রিপোর্টার,দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ
ড. ইউনূস আজকে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। বিদায় নেয়ার সময় উনি দেশের রিজার্ভ রেখে গেছেন ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সাথে দেশবাসীর জন্যে ছয় মাসের মজুদকৃত খাদ্য রেখে গেছেন।
অথচ ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৯ বিলিয়ন ডলার। দেশটা দুর্বা ঘাসের মতো নেতিয়ে পড়া বিধ্বস্ত ছিল।
ইউনূস সরকার সেই বিধ্বস্ত দেশের রিজার্ভটাকে টেনে তুলতে চেয়েছেন। টানতে টানতে সেই রিজার্ভ নিয়ে এসেছেন ৩৩ বিলিয়নে।
তিনি রিজার্ভ বাড়িয়েছেন ১৪ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ১,৬৮০,০০০,০০০,০০০ টাকা। সংখ্যাটা কত বিশাল তাই না? এই বিশাল অঙ্কের রিজার্ভ তার সরকার মিলে বাড়িয়েছে মাত্র দেড় বছরে।
আই রিপিট মাত্র দেড় বছরে।
এই রিজার্ভ আরও বাড়াতে পারতেন। কিন্তু পারেননি কারণ হাসিনার রেখে যাওয়া ২১,০০,০০০,০০,০০,০০০
টাকার ঋণও দিতে হয়েছে ইউনূস সরকারকে।
এই সংখ্যাটাও পড়তে কষ্ট হচ্ছে তাই না? এত বিশাল অঙ্কের ঋণও ইউনূস সরকার পরিশোধ করেছেন মাত্র দেড় বছরেই।
পাশাপাশি জনগণের ভালো করতে গিয়ে, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে গিয়ে শত শত কোটি টাকা ভর্তুকিও দিতে হয়েছে।
হাসিনা আগে বাইরের দেশ থেকে ঋণ আনতো তারপর তার এমপি-মন্ত্রীরা সেই রিজার্ভ নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে বিদেশে আলিশান বাড়ি করতো, গাড়ি কিনতো।
সেই ঋণের বোঝা অসহায়ের মতো টানতে হয়েছে ইউনূস সরকারকে।
অথচ ইউনূস সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নিতে চাননি। তাকে যখন ছাত্ররা ক্ষমতা নিতে কল দিয়েছিল তখন তিনি না করেছিলেন। কিন্তু পরে যখন ছাত্ররা ১ বছরের কথা বলে অনুরোধ করেছিল ইউনূস সরকার রাজি হয়েছিলেন।
কিন্তু তার শর্ত ছিল একটাই- তাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, জনগণ কথা শুনতে হবে।
অথচ তাকে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয় নাই, জনগণও শত শত আন্দোলন করতে গিয়ে তার কথা শুনে নাই।
ইউনূস সরকার চেয়েছিলেন দেশের সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল, আমলা,সচিবরা দেশটাকে সংস্কার করবে আর ড. ইউনূস জনপ্রিয়তা দিয়ে বাইরের দেশ থেকে বিনিয়োগ আনবেন, বাইরের দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবেন।
কিন্তু বাইরের দেশের সফরে গেলেই দেখা যেত দেশে কোন্দল লেগে গেছে, আন্দোলন হচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে, লোকজন খুন হচ্ছে। বাহিনীরাও নেতাদের প্রভাবে হার্ড লাইনে যেতে পারেনি।
এতসব অস্থিতিশীলর ভীড়ে ইউনূস সরকার তার মনমতো কাজ করার সুযোগ পান নাই, নিজের দক্ষতাগুলোও দেখাতে পারেন নাই।
আজকে তিনি সবার সাথে ছবি তুলে বিদায় নিয়েছেন, বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। তার চোখেমুখে ক্লান্তি ছিল, অভিযোগ ছিল, অনেক কিছু বলারও ছিল।
কিন্তু আজকে কারও প্রতি কোন অভিযোগ না করে নিজের ব্যর্থতাগুলো মাথা পেতে নিলেন, জনগণকে ধন্যবাদ দিলেন তারপর মন ভার করে সবার থেকে বিদায় নিলেন।
তার বিরুদ্ধে হয়তো হাজারটা অভিযোগ আছে, সমালোচনা আছে কিন্তু বিদায় নেয়ার সময় আমাদের আক্ষেপ করারও আছে। নিজেদের মা*রামারি আর অসভ্যতামির কারণে একটা লোককে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারিনি আমরা।
এখন হয়তো তাকে তেমন কিছু মনে হচ্ছে না, হবেও না। কিন্তু কোন একদিন কোন সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে যখন ব্যাকস্পেস চেপে পোস্ট ডিলিট করতে হবে তখন মনে পড়বে আমাদের একজন ড. ইউনূস ছিলেন
প্রকাশক ও সম্পাদক : বাহাদুর চৌধুরী মোবাইল: ০১৩২৩০০২৩৭৭
সহসম্পাদক : মেহেদী হাসান হৃদয় মোবাইল:০১৬১০০৯৩৬২২
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যলয়ঃ চৌধুরী কমপ্লেক্স, চেয়ারম্যান বাজার, চরফ্যাশন, ভোলা ।
মোবাইলঃ০১৩২৩০০২৩৭৭ ইমেইলঃ mh01610093622@gmail.com T.L.No:183 T.I.N:534926870539