
বাহাদুর চৌধুরী | দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলাধীন খোশনদী দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে চরম অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে একজন অফিস সহকারী নিয়মিত কর্মরত থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যা এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার নিয়োগ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক লেনদেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি—বর্তমান কর্মরত অফিস সহকারীকে অপসারণের কৌশল হিসেবেই এই পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,
“বর্তমান অফিস সহকারীকে নানা চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সুপার গিয়াসউদ্দিন নিজের ছেলেকে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এটি একটি পরিকল্পিত নিয়োগ ষড়যন্ত্র।”
বর্তমান সভাপতি কামাল উদ্দিন বলেন,
“একজন অফিস সহকারী কর্মরত থাকা অবস্থায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত এবং দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত প্রয়োজন।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসায় কোনো পদে নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই শূন্যপদ থাকতে হয় এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এসব নিয়ম উপেক্ষা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতি হিসেবে গণ্য হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার গিয়াসউদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—
জনস্বার্থে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
#বিস্তারিত জানতে পত্রিকাতে চোখ রাখুন ::(প্রথম পর্ব)
কার্যালয়: তালুকদার ভবন, ৩য় তলা, বাংলাবাজার ভোলা। ০১৮৮৫৫২১৪৮৪
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।