
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কেউপুর বারুইপাড়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে একসময় তামাক চাষের ধূসরতা আর বিষাক্ত ধোঁয়ার ছাপ ছিল স্পষ্ট। আজ সেই মাঠজুড়ে সবুজ পেয়ারার বাগান—যেন নতুন দিনের আশার আলো। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে আছেন সাহসী ও দূরদর্শী কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, যিনি তামাকের ক্ষতিকর চাষ ছেড়ে পেয়ারা চাষে গড়েছেন সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তামাক ছেড়ে পেয়ারায় স্বপ্নবুনে আকরাম হোসেন চার বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আধুনিক পেয়ারা বাগান। নিয়মিত পরিচর্যা, বৈজ্ঞানিক চাষপদ্ধতি ও দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনায় তার বাগান আজ এলাকার মানুষের কাছে বিস্ময় আর অনুপ্রেরণার নাম। তিনি জানান, বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে এই বাগান থেকে—যা লাভজনক কৃষির বাস্তব উদাহরণ।
আকরাম হোসেন বলেন, “তামাক চাষে যেমন স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়, তেমনি পেয়ারা চাষে লাভ বেশি, ঝুঁকি কম। মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় না, পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকে।” তার এই উপলব্ধি আজ সাফল্যের গল্প হয়ে উঠেছে। চার বিঘা জমিতে তিনি ১৪ শতাধিক ‘গোল্ডেন এইট’ জাতের সুস্বাদু পেয়ারা চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি রয়েছে কুল-বরইয়ের চাষ। উল্লেখযোগ্যভাবে, তার জমিতে এখন আর তামাকের কোনো চিহ্ন নেই।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকরাম হোসেনের উদ্যোগ আশপাশের অনেক কৃষককে তামাক চাষ থেকে সরে এসে ফল চাষে আগ্রহী করে তুলেছে। পেয়ারার ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক। ফলে উৎপাদন থেকে বিপণন—সব ক্ষেত্রেই মিলছে ন্যায্যমূল্য।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আকরাম হোসেনের মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে তামাকনির্ভর কৃষি থেকে সরে এসে টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত কৃষি ব্যবস্থায় রূপান্তর সহজ হবে। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশও থাকবে সুরক্ষিত।
সবুজের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা আকরাম হোসেনের পেয়ারা বাগান তাই কেবল একটি সফল উদ্যোগ নয়—এটি কুষ্টিয়ার কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের প্রতীক।
প্রকাশক ও সম্পাদক : বাহাদুর চৌধুরী মোবাইল: ০১৩২৩০০২৩৭৭
সহসম্পাদক : মেহেদী হাসান হৃদয় মোবাইল:০১৬১০০৯৩৬২২
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যলয়ঃ চৌধুরী কমপ্লেক্স, চেয়ারম্যান বাজার, চরফ্যাশন, ভোলা ।
মোবাইলঃ০১৩২৩০০২৩৭৭ ইমেইলঃ mh01610093622@gmail.com T.L.No:183 T.I.N:534926870539