
মোঃ অনিকুল ইসলাম উজ্জ্বল
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও সূর্য উদয়ের বেলা ভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। আর এই কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠেছে যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ। শীত মৌসুম জুড়ে হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি।
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শীত মৌসুমে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।
**যেভাবে যাবেন চরবিজয়:
চর বিজয় যাওয়ার প্রধান উপায় হলো পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে ট্যুরিস্ট বোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় যাওয়া, যা কুয়াকাটা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ; আপনি প্রথমে লঞ্চ বা বাসে কুয়াকাটা পৌঁছাবেন, তারপর সেখান থেকে স্পিডবোট বা স্থানীয় নৌকায় করে বঙ্গোপসাগরের মনোমুগ্ধকর এই দ্বীপে যেতে পারবেন, যা লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির জন্য বিখ্যাত।
ধাপ ১: কুয়াকাটা পৌঁছানো
ঢাকা থেকে: ঢাকা থেকে লঞ্চ বা বাসে পটুয়াখালী বা সরাসরি কুয়াকাটা যেতে পারেন। লঞ্চে গেলে পটুয়াখালী থেকে অটো/বাসে কুয়াকাটা যেতে হবে।
বাসে: ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে (যেমন সাকুরা, হানিফ, ইত্যাদি) কুয়াকাটা যাওয়া যায়।
লঞ্চে: ঢাকা থেকে পটুয়াখালী/কলাপাড়া লঞ্চে করে এসে সেখান থেকে বাস/অটোতে কুয়াকাটা যাওয়া যায়।
ধাপ ২: কুয়াকাটা থেকে চর বিজয়
গঙ্গামতী সৈকত: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গামতী এলাকা থেকে পর্যটকদের জন্য বোটের ব্যবস্থা থাকে, যা চর বিজয় ও টেংরাগিরি অভয়ারণ্যে যায়।
বোট ভাড়া: কুয়াকাটা থেকে চর বিজয় যাওয়ার জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করতে হবে। এটি সাধারণত ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি দ্বীপ, যা সমুদ্রের মাঝে জেগে উঠেছে।
কিছু জরুরি তথ্য:
সময়: কুয়াকাটা থেকে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
আকর্ষণ: লাল কাঁকড়া, অতিথি পাখি (শীতকালে), আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিকল্প: বরগুনার সোনাকাটা হয়েও চর বিজয় যাওয়া যায়, তবে কুয়াকাটা রুটটি বেশি জনপ্রিয়।
আবহাওয়া: খারাপ আবহাওয়ায় সব দ্বীপে যাওয়া সম্ভব হয় না, তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়া জেনে নিন।
পরামর্শ: কুয়াকাটায় পৌঁছে স্থানীয় ট্যুর অপারেটর বা বোট চালকদের সাথে কথা বলে আপনার সুবিধা মতো বোট ঠিক করুন।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।