
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর) ও মহান বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দুই দিবসকেই ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও শ্রদ্ধা,দেশপ্রেম ও আনন্দ—দুটি আবেগই মিলেমিশে এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর অংশ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল ও ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ,কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ করা হবে। প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করবেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এম.এয়াকুব আলী। এ সময় উপস্থিত থাকবেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ মনজুরুল হক।
পতাকা উত্তোলনপর্ব শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ,বিভাগ,আবাসিক হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী,ছাত্রছাত্রী,বিভিন্ন সংগঠন ও ফোরামের অংশগ্রহণে এক শোকর্যালি প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে।
সেখানে ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। পরে বিভিন্ন সংগঠন ও ইউনিটগুলোর পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
১৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। বিএনসিসির গার্ড অব অনারসহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করবেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.এম.এয়াকুব আলী।
সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর। উদ্বোধনের পর এক আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য মুক্ত বাংলায় গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলির পর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলিবল মাঠে প্রীতি ভলিবল, রশি টানাটানি,পিলো পাসিংসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক,কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। প্রতিযোগিতা শেষে ক্রেস্ট ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
সেদিন বিকেলে ক্রিকেট মাঠে সহস্র কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাদ জোহর কেন্দ্রীয় মসজিদ,আবাসিক এলাকার সব মসজিদ ও হলসমূহে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ ভবন, স্থাপনা ও আবাসিক হলে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসিক হলে পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে,এসব কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ,শহীদদের স্মরণ এবং বিজয়ের গৌরব নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।