
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেল লাইনের সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় অবৈধভাবে দখল ও ভরাটের চেষ্টা অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রকে কঠোর অবস্থান নিয়ে থামাতে বাধ্য হয়েছে। রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো মোঃ রাজীবুজ্জামান মিরপুর থানায় ২৫ নভেম্বর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন,পোড়াদহ স্টেশনের উত্তর দিকে রেললাইনের পূর্বাংশে সি.এস রেকর্ডভুক্ত রেলভূমির একটি দীর্ঘদিনের জলাশয় রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি আট জন স্থানীয় ব্যক্তি—মোঃ আঃ সামাদ,মোঃ মাসুদ,মোঃ লিটন,মোঃ ফরজ,মোঃ জসিম,আহম্মোদ,মোঃ শিবলু ও মোঃ মামুন—রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া সেখানে মাটি ফেলে ভরাটের চেষ্টা শুরু করেন।প্রকাশিত অভিযোগপত্রে এই কর্মকাণ্ডকে রেলওয়ে আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভরাট বন্ধের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি।উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ২৪ নভেম্বর পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় (স্মারক নং—ল্যান্ড/পাকশী/সীমানা নির্ধারণ/২০২২/৪৩৫)। এতে বলা হয়েছে, জলাশয় ও সংলগ্ন রেলভূমির সীমানা নির্ধারণের কাজ চলমান থাকায় কোনো ধরণের ভরাট,স্থাপনা নির্মাণ বা দখল চেষ্টাই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাশয়ের অবস্থান ও তফসিল অনুযায়ী: মৌজা: কাটদহ (জে.এল ১১০),খতিয়ান: ৪৩৯,সি.এস দাগ: ১৭৯,৭৮৮ (অংশ),মাপ: ২৮,০০০ বর্গফুট (০.৪৬২৭ একর),চৌহদ্দী: উত্তর—রেলভূমি,দক্ষিণ—রাস্তা,পূর্ব—রেলসীমানা,পশ্চিম—রাস্তা ও রেললাইন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন,দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে ডাম্পার ও ট্রাক ব্যবহার করে মাটি ফেলার কাজ চলছে। তারা মনে করেন,রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তা ছাড়া এমন দুঃসাহসী কাজ সম্ভব নয়। পোড়াদহ বাজারের এক দোকানদার বলেন, রেললাইনের এত কাছে ভরাট করলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে। রেলওয়েকে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। রেলওয়ের পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন,অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। এবার রেলভূমি রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মিরপুর থানার ওসিও জানিয়েছেন,রেলওয়ের লিখিত অভিযোগের পরই ভরাট কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে আর কোনো কাজ করা যাবে না। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আশা করছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সীমানা নির্ধারণ, দখলকারীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল চেষ্টার পুনরাবৃত্তি রোধ করবে। জনগণের প্রত্যাশা,রেলভূমি রক্ষা হোক,এবং অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হোক।
প্রকাশক ও সম্পাদক : বাহাদুর চৌধুরী মোবাইল: ০১৩২৩০০২৩৭৭
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যলয়ঃ চৌধুরী কমপ্লেক্স, চেয়ারম্যান বাজার, চরফ্যাশন, ভোলা ।
মোবাইলঃ০১৩২৩০০২৩৭৭'''' T.L.No:183 T.I.N:534926870539