
স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম এবং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ–বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট গঠন, মামলা নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হয়রানি এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের দিয়ে ‘কথিত বিচারক’ নিয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বরাত এবং অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
অভিযোগকারীরা জানান—ওসি ও এসআই যোগদানের পর চান্দিনায়,চুরি,ছিনতাই,চাঁদাবাজি,মাদক লেনদেন,
জমিজমা ও সামাজিক বিরোধ হঠাৎ বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের দাবি—থানাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী “সিন্ডিকেট বাহিনী” গড়ে ওঠে, যারা টাকার বিনিময়ে সালিশ, মামলা নিয়ন্ত্রণ ও বিচার–বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে মুক্ত কর্মকর্তার বিষয়ে গভীরে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে—
মাসোয়ারা গ্রহণ,আটক–বাণিজ্য,প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ
একাধিকবার ওঠে।
৫ আগস্টের পর সরকার পরিবর্তনের সময় তাকে হেমনা থানায় ওসি করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বদলি হয়ে তিনি চান্দিনায় যোগ দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—চান্দিনায় এসে তার কর্মকাণ্ড আরও “বেপরোয়া” হয়ে ওঠে।
এদিকে কনস্টেবল থেকে এসআই পদোন্নতি পাওয়া ইমাম হোসেন চান্দিনা থানায় যোগ দিয়েই বিভিন্ন দালাল ও অপরাধীদের নিয়ে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট গঠন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীদের দাবি—টাকার বিনিময়ে সামাজিক বিরোধে ‘বিচারক’ নিয়োগ,মামলার তদন্ত নিয়ন্ত্রণ
বাদীকে চাপ দিয়ে আপস করানো, অপরাধীদের রক্ষা
এসবই এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
১৬ নভেম্বর জমি–জমা বিরোধের ঘটনায় এক নারী সাক্ষীর ওপর মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ থানায় জমা দিলে এসআই ইমাম অভিযোগকারীকে হয়রানি শুরু করেন বলে দাবি করা হয়।
২৬ নভেম্বর ওই নারী ওসির শরণাপন্ন হলে এসআই ইমাম উত্তেজিত হয়ে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। সেদিন বিকেলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত না করে অভিযুক্তদের উস্কে দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
এর পরপরই অভিযুক্তরা ওই নারীর বাড়িতে পরপর তিন দফা হামলা চালিয়ে তার স্বামী,সন্তান এবং আত্মীয়দের গুরুতর আহত করে। প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় আহতদের।
২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই ইমাম ভুক্তভোগীকে ফোন দিয়ে উল্টো গ্রেফতারের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ২৯ নভেম্বর দুপুরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাটি যাচাই করতে থানা গেলে এসআই ইমাম তাদের পরিচয় জানার পর উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও একজন সাংবাদিকের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ওসির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানা থেকে “অনুপস্থিত” দেখানো
এতে সাংবাদিকদের মাঝেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী নারী ১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
মারধরের ঘটনায় বাদীপক্ষ কুমিল্লা আদালতে মামলা করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
স্থানীয়দের মতে—চান্দিনা থানা এখন ভয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে। অভিযোগ দিলে বাদীকেই হুমকি দেওয়া হয়, আর সিন্ডিকেটের লোকজন মামলা–বাণিজ্য চালায়।
জনস্বার্থে দ্রুত তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের অপসারণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী পরিবার ও ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাংবাদিক বাহাদুর চৌধুরী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।