
রবিউল আলম,কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের চৌকস দল দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের প্রধান ও ১১টি মামলার আসামি নয়ন (৩৪) সহ তার চার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।
এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ, দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র এবং লাকসাম থেকে ডাকাতি হওয়া ৫টি গবাদি পশু উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি জেলায় ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়। গত মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চান্দিনা থানাধীন বরকরই এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস)-এর নেতৃত্বে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ, চান্দিনা, সদর দক্ষিণ, লালমাই, এবং লাকসাম থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি অপারেশনাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে পুলিশ দলের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করে।
প্রথমে নীল রংয়ের একটি পিকআপ থেকে তিন ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হলেও, ১১ মামলার আসামি নয়ন হলুদ রংয়ের আরেকটি পিকআপ নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া।
ডিবি পুলিশ ধাওয়া করে লাকসাম রেল ক্রসিংয়ের কাছে পিকআপটিকে আটকানোর চেষ্টা করলে ডাকাত নয়ন পিকআপটি উল্টো ঘুরিয়ে ডিবি টিমের দুই সদস্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সময় ওই দুই পুলিশ সদস্য আহত হলেও পিছু হটেনি পুলিশ দল।
প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাকসাম, লালমাই ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার বিভিন্ন পথে ধাওয়া করার পর পিকআপটি সদর দক্ষিণ থানাধীন ফিরিঙ্গির হাট, সুয়াগাজী এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত নয়ন ও তার এক সহযোগী গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালায়। প্রায় ৩০ মিনিট দৌঁড়ানোর পর নয়ন আত্মগোপনের জন্য একটি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। ডিবি পুলিশের পাঁচ সদস্যও সঙ্গে সঙ্গে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে নয়নের এক সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারের পর ডাকাতরা চলতি মাসে লাকসামের একটি মাদ্রাসায় গরু ডাকাতি ও চান্দিনায় অন্য গরু ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। উদ্ধারকৃত গবাদি পশুগুলো লাকসাম থানা এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া ০৩টি গরু এবং ০২টি বাছুর।
গ্রেফতারকৃতরা হলো:
মোঃ নয়ন (৩৪), পিতা- মোহাম্মদ আলী, (১১টি মামলার আসামি)।
মোঃ সজীব রানা (২৮), পিতা- মন্টু মিয়া, (৫টি মামলার আসামি)।
মোঃ রায়হান (২০), পিতা- তাজুল ইসলাম, (১টি মামলার আসামি)।
মোঃ শাহাদাত হোসেন (২৪), পিতা- মৃত মনির হোসেন।
মোঃ নাছির (২৫), পিতা- মোঃ সিরাজ কাজী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নয়ন এবং সজীবের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের মামলা রয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে—দুটি পিকআপ, একটি টোটো রিভাল বার (অস্ত্র), একটি বোল্ট কাটার, চারটি ছুরি-চাপাতি, একটি হেক্কো ব্লেড কাটার এবং ডাকাতি হওয়া গবাদি পশু।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।