
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত ডরমিটরি-২ দখল করে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আশ্চর্যের বিষয়, অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও বাসা বরাদ্দ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নামও।
জানা গেছে,তিন বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো ওই ডরমিটরির বৈধ বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি প্রশাসন। ২০২৩ সালের ২১ জুন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার ১৬টি কক্ষ তালা ভেঙে দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে,সেই তালিকায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়,দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি বাসার মাসিক ভাড়া ২ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারিত। সে হিসাবে গত দুই বছর তিন মাসে অবৈধভাবে দখল করা এসব কক্ষের প্রায় ৯ লাখ টাকার বেশি ভাড়া বকেয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ না থাকায় এতদিন ভাড়া আদায় সম্ভব হয়নি।
গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বাসা বরাদ্দ কমিটির বৈঠকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বরাদ্দবিহীন সকল কক্ষ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ আগস্ট পার হয়ে গেলেও কেউ বাসা ত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছে এস্টেট শাখা।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছি। যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করেও বাসা পাইনি। অথচ যারা অবৈধভাবে দখল করেছিলেন, তারা এখনো অবস্থান করছেন। প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “উপ-উপাচার্য নিজেই অভিযুক্ত হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন না। দীর্ঘদিন চিঠির মেয়াদ শেষ হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে এস্টেট অফিসের প্রধান মো. আলাউদ্দিন বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছিল। বর্তমান প্রশাসন চিঠি দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবৈধ দখলকারীরা এখনো অবস্থান করছেন। প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলে বকেয়া ভাড়াও আদায় করা সম্ভব হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন,আমরা একাধিকবার অবৈধভাবে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসা ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আগামী সপ্তাহে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সেসময় একটি কক্ষ খালি থাকায় অল্প কিছুদিনের জন্য আরেকজন শিক্ষকের সঙ্গে শেয়ার করে ছিলাম। পরবর্তীতে বৈধ বরাদ্দ পাওয়ার পর কক্ষটি ছেড়ে দিই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ ঘটনায় ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শিক্ষকসমাজের দাবি,প্রশাসন যদি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা না নেয়,তবে আবাসন ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।