
দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ
বিশেষ প্রতিনিধি
মোঃ শাহিন হাওলাদার
জনদুর্ভোগ তৈরি করে উল্টো ৬০ কোটি ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টার সংবাদ প্রকাশের পর খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রকৌশল টিম সড়কের মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন উপকরণ পরীক্ষা করে। সেখানে সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন স্তরে যেসব উপকরণ থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি। তারপরও সেগুলো পরীক্ষায়
পাঠানো হয়েছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্স এবং কেডিএর প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি ৪ লেনে প্রশস্ত করতে ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদন পায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। শুরুতে এর ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৯ কোটি টাকা। ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডকে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) কার্যাদেশ দেয় কেডিএ।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও হয়নি। কিন্তু ৭০ কোটি টাকার বিল তুলে নেন ঠিকাদার। কাজ ফেলে রেখে জনভোগান্তি তৈরির কারণে গত ৭ আগস্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। তখন উল্টো কেডিএর বিরুদ্ধে মামলা এবং ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি পদক্ষেপ নেয় মাহাবুব ব্রাদার্স। বিষয়টি নিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর সমকালে ‘দুর্ভোগ ঘটিয়ে উল্টো ৬০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চান ঠিকাদার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদে সড়ক নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরা হয়। দুপুরেই প্রকৌশল টিম নিয়ে সড়কে অভিযান শুরু করে দুদক।
দুদক খুলনার উপপরিচালক মো. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, শিপইয়ার্ড সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, কাজ ফেলে জনভোগান্তি তৈরি এবং কেডিএ ও ঠিকাদারের যোগসাজশে ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে আমরা সরেজমিন পরীক্ষা করছি।
তিনি বলেন, ৩ দশমিক ৭৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কের শেষ ৩০০ মিটার পরীক্ষা করেছি। সেখানে পুরো কাজ হয়েছে বলে কেডিএর মেজরমেন্ট বইতে উল্লেখ করেছে। সড়কের ওই অংশে ১০ ইঞ্চি বালুর স্তর, তার উপর ১০ ইঞ্চি সাববেজে, ৭০ শতাংশ ইটের খোয়া এবং ৩০ শতাংশ বালুর মিশ্রণ থাকার কথা। কিন্তু কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে কিছুই পাওয়া যায়নি। অথচ এসব অংশের বিল তুলেছেন ঠিকাদার।
আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমাদের নিয়োগ করা প্রকৌশলীরা বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
দুদকের সহকারী পরিচালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেডিএ কার্যালয় থেকে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের রশিদ ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। কাগজের সঙ্গে বাস্তবতার অনেক ফারাক রয়েছে।
এ বিষয়ে কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আরমান হোসেন বলেন, শেষ ৩০০ মিটারে কাজ শেষ হয়নি। বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটার ঠিক রয়েছে। তারা শেষ অংশেই সব পরীক্ষা করছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।