খুলনা জেলা প্রতিনিধি
মোঃ শাহিন হাওলাদার
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিন ইসমাইল বলেছেন, সরকার বিদেশি কর্মী কোটার জন্য আবেদন পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট খাত এবং উপখাতের জন্য। এ ছাড়া ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি যৌথ কমিটির বৈঠকের পর, সাইফুদ্দিন বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তিনটি খাত এবং ১০টি উপখাতের জন্য ‘কেস বাই কেস’ ভিত্তিতে আবেদনগুলি পুনরায় খোলা হবে। অনুমোদিত খাতগুলি হলো কৃষি, বৃক্ষরোপণ এবং খনি, যার মধ্যে তাদের সম্পর্কিত সমস্ত উপ-খাতও রয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) বুকিত কিয়ারার এম রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
পৃথকভাবে, পরিষেবা খাতের অধীনে, বিদেশি কর্মীদের জন্য আবেদন করার অনুমতিপ্রাপ্ত উপ-খাতগুলির মধ্যে পাইকারি ও খুচরা, ওয়্যারহাউজ, সিকিউরিটি, স্ক্র্যাপ ধাতু, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো হ্যান্ডলিং, পাশাপাশি ক্লিনিং সার্ভিস রয়েছে।
এ ছাড়া কন্সট্রাকশন সেক্টরে শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে, যেখানে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রের অধীনে, শুধুমাত্র মালয়েশিয়ান বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নতুন বিনিয়োগ করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবেদন করতে পারবে।
সাইফুদ্দিন বলেন, ‘টম, ডিক এবং হ্যারি’কে কোটার জন্য আবেদন করার অনুমতি দেওয়ার প্রথা আর চলবে না। অর্থাৎ আগে, নিয়োগকর্তারা আবেদন করতে পারতেন, এজেন্টরা আবেদন করতে পারতেন, যে কেউ আবেদন করতে পারতেন। এখন আর পারবেন না।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট খাত এবং উপখাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রথমে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির কাছে আবেদন জমা দিতে হবে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপ-মহাসচিবরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ পরিচালকরা বৃক্ষরোপণ ও পণ্য মন্ত্রণালয়ে; কৃষি পরিচালকরা কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে; এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা দেশীয় বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেবেন।
সাইফুদ্দিন বলেন, এই কারিগরি কমিটি আবেদনগুলি যাচাই করবে এবং তারপর সেগুলি আমার এবং মানবসম্পদমন্ত্রী স্টিভেন সিমের যৌথ সভাপতিত্বে যৌথ কমিটির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে।
তিনি বলেন, বৈঠকে সম্মত হয়েছে যে ২০২৫ সালের জন্য বিদেশি কর্মীদের সেক্টরাল সর্বোচ্চ সীমা ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন কর্মী নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথ কমিটি ২০২৬ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে ১০ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য কাজ করবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ চার বছরের নিষেধাজ্ঞার পর ২০২২ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ৫৩ জন কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়। এর সাত মাস পর ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ এক বিবৃতিতে দেশটির তৎকালীন মানবসম্পদমন্ত্রী ভি শিবকুমার বিদেশি কর্মীদের জন্য কোটার আবেদন ও অনুমোদন পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। যা কার্যকর থাকে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।