
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মজনু
কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনা চড়-থাপ্পড়ে মীমাংসা পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের এই অভিযোগ মীমাংসা করতে গ্রামে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন গ্রামের মাতব্বররা। তাদের মধ্যে সমাজপ্রধান রহিম মণ্ডল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিউর রহমান লিটন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অভিযুক্ত বৃদ্ধ বিশা আলীকে চড়-থাপ্পড় মেরে মীমাংসা করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার দুই দিন পর শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ১১ জুন সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তবে গ্রাম্য মাতব্বররা বলছেন, এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বারবার পরামর্শ দেওয়া হলেও এড়িয়ে গেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ বছরের শিশু মেয়েটি খেলা করে। তার পাশেই বাবা-মা বসে থাকেন। এ সময় মায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন (১১ জুন) সকাল ৯টার দিকে আমি আমার মাকে বাড়িতে এগিয়ে দিতে গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে বিশা আলী নামে সম্পর্কে এক প্রতিবেশী দাদা মেয়েকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর মেয়ে ওই বাড়ি থেকে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসতে দেখে আমার সন্দেহ হয়। এ সময় কী হয়েছে, জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ‘বিশা দাদা আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।’ বিষয়টি গ্রামের মুরুব্বিদের জানালে তারা পরের দিন (১২ জুন) রাতে বাড়িতে সালিশ বসান। সালিশে বিশা আলীকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে মাতব্বররা বলেন, ‘সালিশ শেষ।’ এর পরের দিন (১৩ জুন) মেয়ে পেটব্যাথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। মামলা করতে কেউ বাধা দিয়েছে না কি না, জানতে চাইলে শিশুটির মা বলেন, ‘মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে থানায় যাইনি। মেম্বার ও সমাজপ্রধান বলেছেন, আগে চিকিৎসা নিয়ে আসো, তারপর মামলা করতে সব ধরনের সহযোগিতা করব। আমি মামলা করব। সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য মতিউর রহমান লিটন হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা করতে বলেছিলাম। তারা যায়নি। তবে সালিশে চড়-থাপ্পড় মেরে মীমাংসা করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তির ভাই-ভাতিজারা। আমি শুধু উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনায় সমাজপ্রধান রহিম মণ্ডল বলেন, সামাজিকভাবে আমরা একটা মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। সেখানে অভিযুক্তকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছিল। ধর্ষণের মতো ঘটনা বিচার সালিশ করে সমাধান করতে পারেন কি না, জানতে চাইলে রহিম মণ্ডল বলেন, ‘আমি তাদের মামলাও করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা করেননি। আমি সবসময় শিশুটির খবর রাখছি। জানা গেছে, অভিযুক্ত বিশা আলী একই গ্রামের মৃত হরা আলীর ছেলে। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন তিনি। ঘটনা জানাজানির পর থেকে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পাটিকাবাড়ি ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরনবী বলেন, ওসির নির্দেশে শিশুটিকে হাসপাতালে দেখে এসেছি। চিকিৎসা শেষে পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।