
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যরো প্রধান।
কুষ্টিয়ায় আলম হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে রুমের ভিতর আটকে রেখে সারারাত মারধর করে তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফোন করে লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করা স্বামী-স্ত্রী দম্পত্তি র্যাবের হাতে আটক হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই যুবক আলম হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার আকামত আলীর ছেলে।
মঙ্গলবার (০৩ জুন) রাত আনুমানিক ৮ টার সময় জেলার সদর থানাধীন আলফার মোড় গীর্জা নাথ মজুমদার সড়কের সিমান্ত টাওয়ার-৩ এর ফ্ল্যাট নং-C1 থেকে আসামী স্বামী -স্ত্রী দম্পতি কে আটক করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী স্বামী -স্ত্রী দম্পত্তিরা হলেন নাটোর
জেলার লালপুর থানাধীন কুজিপুকুর দোয়াড়ী এলাকার
মোঃ ফরিদ হোসেনের ছেলে মোঃ আশিক আলী (২৩) ও তার স্ত্রী কুষ্টিয়া চৌড়হাস মতি মিয়ার রেলগেট এলাকার
মাহাবুব শেখের মেয়ে মোছাঃ সুইটি খাতুন (২২)।
র্যাব সুত্রে জানা যায়, গত ইং ০২ মে সন্ধ্যা অনুমানিক সাতটার সময় কুষ্টিয়া সদর থানাধীন সদর হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তার মোড় থেকে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যাক্তি ভুক্তভোগী আলমকে অপহরন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়, সেখানে আটকে রেখে তার পিতা আকামত আলীর মুঠোফোনে তার ছেলে আলমের নাম্বার থেকে কল দিয়ে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিরা আলমের পিতাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান তার ছেলেকে তারা অপহরন করা হয়েছে। তার জীবন বাঁচানোর জন্য এক লক্ষ টাকা বিকাশের মাধ্যমে দিতে হবে। ভুক্তভোগীর পিতা ১০ হজার টাকা দিতে রাজি হয় এবং অপহরহরনকারীদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। তবুও অপহররনকারীরা তার ছেলেকে ছেড়ে দেয় না।আসামীরা তার ছেলের মুক্তিপন হিসাবে আরো ৯০ হাজার টাকা দাবী করে এবং তার ছেলেকে আটকে রেখে রাতভর শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। পরে আর কোন হদিস না পেয়ে ভুক্তভোগীর পিতা আকামত আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং -০৭ তারিখ : ০৩/০৬/২০২৫ ইং।
উক্ত ঘটনার মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।বিভিন্ন টেকলোজি ব্যবহার করে ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব অপহরনকারীর স্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তারই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার পিপিএম এর নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকষ আভিযানিক টিম আলফা মোর গীর্জা নাথ মজুমদার সড়কের সিমান্ত টাওয়ার-৩ এর ফ্ল্যাট নং-C1 এ
অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী আলমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, এবং অপহরনকারী স্বামী স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী ও আসামীদের কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যাব।
বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার পিপিএম বলেন, অপহরন মামলার প্রেক্ষিতে র্যাব-১২, কুষ্টিয়া মোবাইলের লোকেশন ট্রেকিং করে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে এবং দুইজন অপহরনকারীকে আটক করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আসামীদের কে কুষ্টিয়া মডেল থানার মামলার আয়ুর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।