
ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
এবারো কিন্তু আমাকে জামা কিনে দিতে হবে। মেহেদীও নিয়ে দিতে হবে। বাবা আমাকে ঈদে নতুন জামা দিবা না? গতরাতেই মেয়ে তাঁর গালে চুমু দিয়ে আবদার করেছিলো। মেয়ের এই সমস্ত কথা মনে করে বিলাপ করে কাঁদছিলেন বাবা ইসরাফিল। আজ শনিবার (৩১ মে) দুপুর ২ টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পালশা ইউনিয়নের চাটশাল বিলপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় সাত বছরের শিশু নিলিফা আক্তার মিমের।
এর আগে, সন্তান প্রসবের জন্য মা এসেছিল বাবার বাসায়। সাথে করে নিয়ে আসে সাত বছরের শিশু নিলিফা আক্তার মিমকে। সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া ছেলে সন্তানকে দেখতে আসে বাবা। ছেলেকে দেখা শেষে বাবা সাথে করে নিয়ে যেতে চায় মেয়ে মিমকে। মিম আরও কয়েক দিন তার মায়ের সাথে নানার বাসায় থাকবে বলে বাবার কাছে বায়না ধরে। বাবা তাঁর আদরের মেয়ের বায়না মেনে নিয়ে চলে যায়। তারপর নানা বাড়ির পাশে এক পুকুরে গোসল করতে নামে মিমসহ সমবয়সী কয়েকজন শিশু। সাঁতার না জানায় মিমসহ আট বছরের আরেক শিশু কারিমা আক্তার পানিতে ডুবে যায়। শিশু কারিমা বেঁচে ফিরলেও মিমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী।
নিহত নিলিফা আক্তার মিম বিরামপুর উপজেলার বড় গোপালপুর এলাকার ইসরাফিলের মেয়ে। নিহত মিম এলাকার বড় গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণীতে পড়া লেখা করতো। পানিতে ডুবে অসুস্থ কারিমা আক্তার উপজেলার চাটশাল গ্রামের শফিকুরের মেয়ে। অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্পর্কে দুই শিশু খালা ও ভাগ্নি।
নিহত শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ দুপুরে কয়েকজন শিশু খেলছিল। খেলতে খেলতে তারা ওই শিশুর নানা বাড়ি পূর্ব দিকে ১০০ গজ দূরে একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। পরে সেখানে থাকা আরেক শিশু ওই জনকে পুকুরে ডুবতে দেখে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পুকুরে নামেন। এসময় শিশু নিলিফাকে মৃত এবং কারিমাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এসময় কারিমাকে মূমুর্ষু অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে তার জ্ঞান ফিরে আসে। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন,পানিতে ডুবে নিলিফা আক্তার নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।