
মোঃ হারুন চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার,কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জেলার দুটি প্রধান হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। সচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে এ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন থাকলেও তা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা ২৫ জন থেকে বেড়ে ৩০ জনে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে জেলার এই দুটি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় শতাধিক শিশু রোগী।
আক্রান্ত শিশুদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুতে শিশুদের প্রচণ্ড জ্বর আসার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা ফোটা ফোটা দাগ দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ওষুধ সেবন করালেও জ্বর সহজে কমতে চায় না এবং ঠান্ডাজনিত উপসর্গ লেগেই থাকে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শে শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠলেও রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণে তারা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ নার্স হিমা খাতুন বলেন, “এ সপ্তাহে হঠাৎ করেই হামের রোগী বেড়ে গেছে। মূলত পিতা-মাতার অসচেতনতা এবং হামে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে সুস্থ বাচ্চারা আসার কারণে তারাও সংক্রমিত হচ্ছে।”
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইকবাল হাসান জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাবা-মায়ের অসচেতনতা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই মূলত সংক্রমণ বাড়ছে। তিনি জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খাইয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে—জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা (আইসোলেশন) রাখা এবং শিশুদের নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করা।
হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
কার্যালয়: তালুকদার ভবন, ৩য় তলা, বাংলাবাজার ভোলা। ০১৮৮৫৫২১৪৮৪
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।