
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে মুন্সি তুফাজ্জল হোসেন-রিজিয়া খাতুন মডেল মাদ্রাসা। গ্রামীণ জনপদের শান্ত,স্নিগ্ধ ও নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে ওঠা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা,ইংরেজি, গণিতসহ সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে।
স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মাদ্রাসাটির চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান মুন্সী এবং অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মোঃ ওবায়দুর রহমান মাদানী। বর্তমানে আটজন শিক্ষক এখানে পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০-এর বেশি। সীমিত পরিসরেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা,ধর্মীয় অনুশাসন,শৃঙ্খলাবোধ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমান সময়ে শিক্ষার পরিধি কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা,গণিত, বিজ্ঞানমনস্কতা,নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিকাশও একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি সামনে রেখে মাদ্রাসাটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি,গণিতসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম আকর্ষণ হিফজ শিক্ষা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছরই শিক্ষার্থীরা হাফেজ হিসেবে গড়ে উঠছে। পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের জন্য পৃথক হিফজের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে তুলতে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। আধুনিক শিক্ষা উপকরণের সহায়তায় পাঠদানের সুযোগ শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করা এবং বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক বিকাশ ও সৃজনশীলতা বাড়াতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফুটবল, ভলিবল, ক্যারাটে ও র্যাকেটজাতীয় খেলাধুলার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস,নিয়মানুবর্তিতা ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা ইসলামি সংগীত শেখা ও পরিবেশনের চর্চা করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন সমন্বয় শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গড়ে ওঠে একটি এলাকার স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আওতায় আনা,অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আদাবাড়িয়া গ্রামের এই মাদ্রাসাটিও স্থানীয় শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখছে। তবে এ অগ্রযাত্রাকে আরও সুদৃঢ় করতে প্রয়োজন ধারাবাহিক মানোন্নয়ন,দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ,নিয়মিত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে অভিভাবক,স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
গ্রামের মাটিতে বোনা শিক্ষার স্বপ্ন একসময় আলোকিত করতে পারে পরিবার, সমাজ ও দেশকে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সাধারণ জ্ঞান, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার সমন্বয়ে মুন্সি তুফাজ্জল হোসেন-রিজিয়া খাতুন মডেল মাদ্রাসা সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে।
আদাবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের। যথাযথ পরিকল্পনা,শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সম্মিলিত সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ শিক্ষার বিকাশে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
জ্ঞান,নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই হোক এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগামীর পথচলার মূল প্রেরণা।
কার্যালয়: তালুকদার ভবন, ৩য় তলা, বাংলাবাজার ভোলা। ০১৮৮৫৫২১৪৮৪
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।