
মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী
স্টাফ রিপোর্টার,
দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ ।
কুষ্টিয়া জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। তবে আশার কথা হলো, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লেও জেলায় এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ (৫ অক্টোবর, ২০২৬) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরে কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৩৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। গত রোববার সকাল ৭টা থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৭ জন আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের সবাই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে আলোচ্য ২৪ ঘণ্টায় জেলার কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তির খবর পাওয়া যায়নি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে মিরপুরে—৪৮ জন (বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২ জন)। এছাড়া খোকসায় ৪০ জন, কুমারখালীতে ৩৭ জন, ভেড়ামারায় ৩৪ জন (বর্তমানে ভর্তি নেই) এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৪ জন (বর্তমানে ভর্তি ২ জন) আক্রান্ত হয়েছেন।
উপজেলা পর্যায়ের তুলনায় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সমগ্র জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৭ জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৬ জনকে।
এদিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আলাদা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ৬ জন ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ জন।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই একমাত্র কার্যকর উপায়। বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করা, দিন ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বর হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।