
বাহাদুর চৌধুরী ::
নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা যথাযথ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত থাকলেও নিম্নপদের কয়েকজন কর্মচারীকে গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালী সদর রেঞ্জে কর্মরত ফরেস্ট গার্ড কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তার চেয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় আট বছর ধরে তিনি এভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট পদে কর্মরত বিসিএস ক্যাডার রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তাদের অনেককেই তাদের পদ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব না দিয়ে বিভিন্ন বিট, কোয়ার্টার কিংবা নামমাত্র দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
একইভাবে আলেকজান্ডার রেঞ্জে কামরুল হাসান নামে একজন ফরেস্ট গার্ডকে রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ রেঞ্জেও শামসুল কবির নামে একজন ফরেস্ট গার্ডকে রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
‘যোগ্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব না পেলে পদোন্নতির মূল্য কোথায়?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রেঞ্জ কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তার অভিযোগ, পদোন্নতি পাওয়ার পরও তাদের অনেককে যথাযথ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাদের প্রশ্ন, একজন কর্মকর্তা যদি তার পদ অনুযায়ী দায়িত্বই না পান, তাহলে সেই পদোন্নতির বাস্তব মূল্য কী?
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টনের কারণে বন বিভাগের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সরকারি গাছ বিক্রি ও প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অভিযোগ
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বন বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরকারি গাছ বিক্রি, বরাদ্দকৃত প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করে কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখানো এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।
এছাড়া ‘পরিবেশ বাঁচান, গাছ লাগান’সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
এছাড়া করাতকল ও কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ
বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় করাতকল পরিচালনা, লাইসেন্স তৈরি ও নবায়ন এবং কাঠ পরিবহনের অনুমতি নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু করাতকল মালিকের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয়। নতুন করাতকলের লাইসেন্স তৈরি ও লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন নামে অর্থ নেওয়া এবং সরকারি বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাঠ পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে—এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নোয়াখালী জেলা উপকূলীয় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কামরুল হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা জানান। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট সময়ের অফিস আদেশ, দায়িত্ব বণ্টনের নথি, সরকারি গাছ বিক্রির রেকর্ড, টেন্ডার নথি, প্রকল্পের বিল-ভাউচার, করাতকলের লাইসেন্স রেজিস্টার এবং কাঠ পরিবহনের অনুমতিপত্র পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, এসব নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
দ্বিতীয় পর্বে যা থাকছে
সরকারি বনজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, করাতকলের লাইসেন্স, কাঠ পরিবহনের অনুমতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।