
নিজস্ব জেলা প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলার আসামিপক্ষের দাবি, কিশোরীকে অপহরণ করা হয়নি। তার সঙ্গে সিয়াম নামে এক যুবকের আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে কিশোরী নিজ ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সিয়ামের কাছে যায় এবং তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় বিয়ে করেন।
আসামিপক্ষের দেওয়া একটি ভিডিওতে ওই কিশোরীকে বলতে শোনা যায়, সে নিজের ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সিয়ামের কাছে এসেছে এবং তাকে কেউ অপহরণ করেনি—এমনটাই তাদের দাবি। পাশাপাশি আসামিপক্ষ বিয়ের কাগজপত্রও দেখিয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রসুলপুর ইউনিয়নের একটি পাকা সড়ক থেকে ওই কিশোরীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ওইদিনই শশীভূষণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বরিশাল নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রসুলপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু সিকদার, দক্ষিণ আইচা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনির ব্যাপারী এবং শশীভূষণ ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনুল হাজারী ওরফে নুরে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে হাজির করা হলে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগের বিষয়টিও উঠে এসেছে। মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সিয়ামসহ অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার মাইনুল হাজারীর স্বজন কাইয়ুম বলেন, কিশোরীর সঙ্গে সিয়ামের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে সিয়ামের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাকে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসামিপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে সিয়ামের বাবা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে কিশোরী নিজ ইচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে সিয়ামের কাছে চলে আসে। এরপর তারা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছে আসামিপক্ষ।
এদিকে, কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর আসামিপক্ষের স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ, হামলা এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
আসামিপক্ষের আরও অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। মামলার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় তাদের স্বজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
শশীভূষণ থানার ওসি ফিরোজ আহমেদ বলেন, বাদীপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার এবং মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একদিকে পুলিশের মামলায় অপহরণের অভিযোগ, অন্যদিকে কিশোরীর ভিডিও বক্তব্যে স্বেচ্ছায় যাওয়ার দাবি এবং আসামিপক্ষের দেখানো বিয়ের কাগজ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কিশোরীর বয়স, বিয়ের আইনগত বৈধতা, অপহরণের অভিযোগ এবং অন্যান্য বিষয় তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।