
মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী
স্টাফ রিপোটার , কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই স্যালোইঞ্জিন চালিত ‘লাটাহাম্বা’ গাড়ি উল্টে মো. আলিফ (৮) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা ঘাটপাড়া সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ আলিফ ওই এলাকার মনসুর প্রামাণিকের ছেলে। ঘটনার পর প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিখোঁজকে উদ্ধারে কাজ করছে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস, স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয়েছে খুলনা থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলকেও।
দুর্ঘটনার বিবরণ স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে শিলাইদহ ব্লক এলাকা থেকে বালুবোঝাই একটি লাটাহাম্বা গাড়িতে আব্দুল আহাদ, জিহাদ, ওমর ফারুক ও আলিফ নামের চার শিশু উঠে পড়ে। পদ্মাপাড়ের সড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে পাশ দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় গাড়িটি। মুহূর্তে গাড়িটি উল্টে গিয়ে পদ্মার পানিতে পড়ে যায়। এতে চালক জাকির হোসেনসহ চার শিশুই নদীতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় উদ্যোগ ও উদ্ধার অভিযান দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চালকসহ তিন শিশু—আব্দুল আহাদ, জিহাদ ও ওমর ফারুককে (৬) জীবিত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে তীব্র স্রোতের কারণে আলিফ নামের শিশুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে জানিয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, "বিকেল পর্যন্ত বালুবোঝাই গাড়িটি টেনে তোলা সম্ভব হলেও শিশু আলিফের সন্ধান মেলেনি। আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুলনা ডুবুরি দলকে তলব করা হয়েছে।"
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য ছিল দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া শিশু ওমর ফারুক জানায়, "ড্রাইভার (জাকির হোসেন) তাদের গাড়িতে উঠতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু তারা না শুনে বালুর ওপর উঠে। গাড়ি উল্টে গেলে ড্রাইভার আমাকে তুলে আনে, কিন্তু আলিফকে আর পাওয়া যায়নি।"
ওমর ফারুকের বাবা মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, "সরু রাস্তার কারণে মোটরসাইকেলকে জায়গা দিতে গিয়ে গাড়িটি স্লিপ কেটে নদীতে পড়ে যায়। বারবার সন্তানদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও তারা সুযোগ বুঝে আবার উঠে পড়েছিল, যা এই মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনল।"
এদিকে কসবা এলাকায় পদ্মার পাড়ে উৎসুক জনতার ঢল নেমেছে। নিখোঁজ শিশুটির পরিবারে বইছে মাতম ও শোকের ছায়া। স্থানীয় অধিবাসীরা পদ্মাপাড়ের সরু রাস্তায় বালু ও মাটির ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।