মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯ নম্বর ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ বুলবুলি খাতুন,বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ নার্গিস আক্তার ও ইউপি সদস্য মোঃ রাকিবুল ইসলাম (পলাশের) বিরুদ্ধে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ ঘিরে কয়েক দিন ধরে ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। সাবেক ইউপি সদস্য বুলবুলি খাতুনের অভিযোগ,বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেছেন।
তবে এ দাবির পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে,বুলবুলি খাতুনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাদের দাবি,সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগেরও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের ভাষ্য,সরকারি ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়ার কথা নয়। তাই ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের একজন উদ্যোক্তাকে হুমকি দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি,এ ঘটনায় একটি ভিডিও রয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময়কাল,বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ যেমন হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই,তেমনি কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও তা তদন্ত ছাড়া সত্য বা মিথ্যা বলে ধরে নেওয়া সমীচীন নয়। অভিযোগের আড়ালে প্রকৃত ঘটনা কী,সেটিই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।
এলাকাবাসী বলছেন,পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিভ্রান্তি আরও বাড়ছে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ভাতা কার্ডের নামে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী এবং দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগের পেছনে বাস্তব কোনো ঘটনা রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এ প্রতিবেদনের জন্য অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোঃ রাকিবুল ইসলাম (পলাশ) ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ নার্গিস আক্তারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। একইভাবে সাবেক ইউপি সদস্য মোছাঃ বুলবুলি খাতুনের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও পাঠকের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
সব মিলিয়ে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখন শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়;এর সঙ্গে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহির প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয়রা।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।