দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ :
বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ আইন রয়েছে—এটি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোনো পুরুষ যখন নির্যাতনের শিকার হন, তখন তার জন্য আইনি সুরক্ষা কোথায়?
আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে নির্যাতনের বিচার নির্ভর করবে নির্যাতিত ব্যক্তি নারী নাকি পুরুষ—তার ওপর?
ইসলাম কোনো পক্ষপাতমূলক সমাজব্যবস্থার শিক্ষা দেয় না। পবিত্র কোরআন আমাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে। নারী ও পুরুষ উভয়েই আল্লাহর সৃষ্টি এবং উভয়েরই সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
অনেকে পবিত্র কোরআনের সঙ্গে সম্পর্কিত করে বলেন, নারীকে পুরুষের “বাঁকা পাঁজরের হাড়” থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—এটি কোরআনের আয়াত নয়; সহিহ হাদিসে এ ধরনের উপমা এসেছে। আর এর অর্থ কোনোভাবেই নারীকে “সোজা করার” নামে নির্যাতন করা নয়। বরং এর শিক্ষা হলো—দাম্পত্য জীবনে একে অপরের স্বভাব ও পার্থক্যকে বুঝতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে এবং কোমল আচরণ করতে হবে।
তাহলে প্রশ্ন থাকে—যদি কোনো নারী নির্যাতনের শিকার হলে তার জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষা প্রয়োজন হয়, তাহলে কোনো পুরুষ নির্যাতিত হলে তার জন্য একইভাবে কার্যকর আইনি প্রতিকার থাকবে না কেন?
আজকের বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের পাশাপাশি কিছু পুরুষও শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক হয়রানি, মিথ্যা অভিযোগ, সামাজিক অপমান কিংবা সন্তানকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের জটিলতার শিকার হন। প্রতিটি ঘটনা সত্য নয়—ঠিক যেমন নারী নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার—এটাই ন্যায়বিচারের পথ।
আমরা নারী নির্যাতনের আইন বাতিল চাই না।
আমরা নারীর অধিকার কমাতে চাই না।
আমরা পুরুষের নামে নারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা চাই না।
আমরা চাই—নির্যাতনের শিকার প্রত্যেক মানুষের জন্য ন্যায়বিচার।
নারী নির্যাতন অপরাধ—পুরুষ নির্যাতনও অপরাধ।
নারীর প্রতি অন্যায় অন্যায়—পুরুষের প্রতিও অন্যায় অন্যায়।
মিথ্যা মামলা অপরাধ—সেটি নারী বা পুরুষ, যেই করুক।
আইনের অপব্যবহার অন্যায়—অভিযোগকারী যে পক্ষেরই হোক।
তাই বাংলাদেশের আইনব্যবস্থায় এমন কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে নারী ও পুরুষ উভয়েই নির্যাতনের শিকার হলে নিরাপদে অভিযোগ করতে পারেন, নিরপেক্ষ তদন্ত পান এবং সত্য প্রমাণিত হলে ন্যায়বিচার পান।
কারণ—
ন্যায়বিচারের কোনো লিঙ্গ নেই।
অধিকারের কোনো লিঙ্গ নেই।
নির্যাতনেরও কোনো লিঙ্গ নেই।
আমাদের আগামী প্রজন্মের শিশুদের দাবি নারী বনাম পুরুষ নয়—
আমাদের দাবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ন্যায়বিচারের পক্ষে।
ইসলামের ন্যায়বিচারের শিক্ষা এবং বাংলাদেশের বাস্তবতা—দুটিকে সামনে রেখে এখন সময় এসেছে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য কার্যকর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার।
চাইলে এটাকে আরও আগুনঝরা, প্রতিবাদী ও ভাইরাল ফেসবুক পোস্টের ভাষায় লিখে দিতে পারি।
Publisher & Editor: Bahadur Chowdhury
Mobile: 01323002377
Editorial & Commercial Office: Chowdhury Complex, Chairman Bazar, Char Fasson, Bhola
Mobile: 01323002377
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ।