
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
কুষ্টিয়া।
কুষ্টিয়ায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে,প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ।
এ ঘটনায় আ”হত নারী কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার জুগিয়া দর্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল থানায় এজাহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠে তার মা মোছা. মোমেনা বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী,তারা জানতে চান,তিনি কেন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। জবাবে মোমেনা বেগম জানান,নিজের ইচ্ছামতো যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়েছেন,এতে কারও কিছু বলার অধিকার নেই।
একপর্যায়ে উ’ত্তেজনা বাড়লে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন মিলে হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে রাসেলদের বাড়িতে ঢুকে মোমেনা বেগমকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠি দিয়ে আ’ঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন,শরীরের নানা স্থানে ফো’লা,জ’খম ও র’ক্তাক্ত চিহ্ন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়,এখনও সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় একই এলাকার আটজনকে এজাহারে অভিযুক্ত করার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। অভিযোগকারী রাসেলের দাবি, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তার মায়ের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনাস্থলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থিত ছিলেন,যারা পুরো হামলার ঘটনা দেখেছেন। আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে চিকিৎসার দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়, পরে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় লিখিত অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্র জানায়, ঘটনাটি নিয়ে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বার।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন,ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে,নিরপেক্ষ তদন্ত,দ্রুত বিচার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply